কোনো নাবালিকার বুকে হাত মানেই ধর্ষণ নয়, এমনি রায় দিলো বোম্বে হাইকোর্ট

5
কোনো নাবালিকার বুকে হাত মানেই ধর্ষণ নয়, এমনি রায় দিলো বোম্বে হাইকোর্ট

দিনে ধর্ষণের পরিমান ক্রমশ বাড়ছে, বাড়ছে নাবালিকাকেও অত্যাচারের সংখ্যা। এরকম পরিস্থিতিতে যখন সকলেই আইনের দিকে তাকিয়ে থাকে সঠিক বিচার পাওয়ার জন্য ঠিক সেই সময় এই আইনের পক্ষ থেকে আসে একটি রায়, জানিয়ে গোটা দেশজুড়ে এখন সমালোচনার ঝড় উঠেছে বিতর্ক, সেই কারণেই হাইকোর্টের এই রায়কে এবার স্থগিতাদেশ করে রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট।

এই রায়ের শুনানি হবে দু সপ্তাহ পরে। এই মামলাটি প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এর কাছে আবেদন করেছিল অ্যাটর্নি জেনারেল, এবং তারপরেই তিনটি সদস্যের বেঞ্চে কে নিয়ে মহারাষ্ট্র সরকার এবং অভিযুক্তকে নোটিশ পাঠিয়ে ছিল তারা। দু সপ্তাহের মধ্যে এই উত্তর দিতে হবে বলে জানিয়েছেন তারা আপাতত ততদিনের জন্য রয়েছে এই বিষয়টি স্থগিত। এটনী এই বিষয়টি সম্পর্কে জানান যে, এই রায়ের দ্বারা একটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে এবং তিনি অনুরোধ করেন যে এই বিষয়টির জন্য একটি ব্যবস্থা নিতে।

অন্যদিকে এইরকম একটি অর্ডার এর বিপক্ষে আপিল জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এত সমস্ত কিছুর পরে আপাতত সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে রেখেছে। স্বাভাবিকভাবে যে ব্যক্তি সম্পর্কে এ ধরনের একটি অভিযোগ আনা হয়েছে তাকে প্রাথমিকভাবে ট্রায়াল কোর্টে এর মাধ্যমে ৮ নম্বর ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং তার তিন বছরের জেল হয়েছে তবে হাই কোর্ট বলেছে যে পকসা অনুযায়ী সেই ব্যক্তি দোষী নয়।

শ্রীলতাহানি জন্য তাকে জেল শাস্তি দেওয়া হয় ওই ব্যক্তি সম্পর্কে অভিযোগ আনা হয়েছিল যে একটি নাবালিকার বুকে হাত দিয়েছিল। ১৯শে জানুয়ারি হাইকোর্টে নাগপুর বেঞ্চের প্রধান বিচারপতি পুষ্প গানেদিওয়ালা বলেছিলেন যে যদি ধর্ষণ করতে হয় এরকমই একটি ভাবনা চিন্তা নিয়ে শরীরে হাত দেওয়া হয় তবে সেটি হবে যৌন নির্যাতন।

পুষ্প গানেদিওয়ালা আদালতের রায়কে সংশোধন করেছিলেন। ৩৯ বছরের এক ব্যক্তি দুই বছরের একটি নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন করেছিল এবং যার জন্য নিম্ন আদালতে তরফ থেকে তাঁকে ৩৫৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তিন বছরের জেল শাস্তি দিয়েছিলো এবং ৫০০ টাকা জরিমানা করেছিল।

হাইকোর্ট জানিয়ে দিল যে যেহেতু যৌন অভিপ্রায় কোনো শারীরিক স্পর্শ হয়নি সেই জন্য ওই ঘটনাকে পোকসো আইনের আওতায় ধরা সম্ভব নয় জানা গেছে যে ওই ব্যক্তি নাবালিকার বুকে চাপ দিয়েছিল। বেঞ্চের বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ রয়েছে যে ওই নাবালিকাকে কোনরকম টপ খুলে দেওয়া হয়েছিল কিনা সে বিষয়ে তদন্ত না করা পর্যন্ত এই ব্যাপারটাকে যৌন নির্যাতন বলে ধরা যাবেনা। হাইকোর্টের রায়ে আরও বলা হয়েছে যে শারীরিক স্পর্শ হলেও সেটা যখন সরাসরি হবে তবেই সেটা যৌন নির্যাতন বলে ধরা হবে।