সুন্দরবনের জঙ্গলে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে ফের নিখোঁজ হলেন এক মৎস্যজীবী

8
সুন্দরবনের জঙ্গলে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে ফের নিখোঁজ হলেন এক মৎস্যজীবী

সুন্দরবনে গভীর জঙ্গলে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের কবলে পড়ে নিখোঁজ হলেন এক মৎস্যজীবী। এবং সেই দুঃসংবাদ শুনে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মৃত্যু হলো ওই মৎস্যজীবীর শ্যালকের। নিখোঁজ ওই মৎস্যজীবীর নাম দিনবন্ধু মন্ডল, বয়স ৫১ বছর। জামাই বাবুর মৃত্যু সংবাদ পেয়ে ওই নিখোঁজ মৎস্যজীবীর শ্যালক হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং মারা যান।

দাদার শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের খরচ জোগাতে ঝিলার জঙ্গলে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন ওই মৎস্যজীবী। তার সঙ্গে ছিলেন আরো তিন মৎস্যজীবী। বন দপ্তরের থেকে অনুমতি নিয়েই তারা গভীর জঙ্গলে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন। চারদিন আগে ওই মৎস্যজীবীর বড় দাদা পঞ্চানন মণ্ডল মারা গিয়েছেন। তার পারলৌকিক ক্রিয়া কর্মের খরচ যোগাতে বিপদ মাথায় করে গভীর জঙ্গলে গিয়েছিলেন তিনি। আর সেখানেই ঘটে যায় বিপদ।

ছোট নৌকা করে যখন তারা কাঁকড়া ধরতে ব্যস্ত ছিলেন তখন দিনবন্ধুকে টার্গেট করে ঝাঁপিয়ে পড়ে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার। ঘাড়ে থাবা বসিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বাঘ। প্রথমটা হতচকিত হয়ে গেলেও ওই মৎস্যজীবীর সঙ্গে থাকা আর তিন মৎস্যজীবী নৌকার দাঁড় এবং লাঠি নিয়েই রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সঙ্গে যুদ্ধ করতে শুরু করেন।

বাঘে-মানুষে টানা ৪০ মিনিটের যুদ্ধের পর রয়েল বেঙ্গল টাইগার এর কাছে হার মানতে বাধ্য হন ওই মৎস্যজীবীরা। নিজের শিকার নিয়ে গভীর জঙ্গলে চলে যায় ওই রয়েল বেঙ্গল টাইগার। খালি হাতেই ফিরতে হয় বাকি মৎস্যজীবীদের। তিন সঙ্গী নৌকো নিয়ে ফিরে আসেন ২ নম্বর এমলিবাড়ি গ্রামের ঘাটে। এই মৃত্যু সংবাদে শোকের ছায়া নেমে আসে ওই গ্রামে।