নিজের টাকা তুলতে না দেওয়ায় ব্যাংক ম্যানেজারের সামনে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা এক কৃষকের

5
নিজের টাকা তুলতে না দেওয়ায় ব্যাংক ম্যানেজারের সামনে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা এক কৃষকের

মালদা, ৩১ অক্টোবর : কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা এক কৃষকের। আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ ব্যাংক ম্যানেজারের বিরুদ্ধে। নিজের জমিতে  ফসল উৎপাদন না হওয়ায় কৃষি লোন নেওয়া দুই লক্ষ টাকার কিস্তি সময়মতো পরিশোধ করতে পারছিলেন না গাজোলের এক কৃষক। যার ফলে এলাকার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই কৃষক ও তার পরিবারকে ক্রমাগত চাপ দিচ্ছিল বলে অভিযোগ।

অবশেষে হতাশাগ্রস্ত হয়ে ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ম্যানেজারের সামনে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করল ওই কৃষক। এই ঘটনার সমস্ত সিসিটিভির ফুটেজ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে বলে দাবি করেছেন অসুস্থ কৃষকের পরিবার। শনিবার বিকেলে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে গাজোল থানার আলমপুর এলাকার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে।

এদিকে এই ঘটনার পর সংকটজনক অবস্থায় ওই কৃষককে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয়েছে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। পাশাপাশি এই ঘটনায় গাজোল শাখার ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এবং অসুস্থ কৃষকের পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অসুস্থ কৃষকের নাম প্রতাপ চন্দ্র ঘোষ (৩৪)। তার বাড়ি আলমপুর ঘোষপাড়া এলাকায়। পরিবারে স্ত্রী সোনালি ঘোষ ছাড়াও ১১ এবং ১২ বছর বয়সী দুই নাবালিকা মেয়ে রয়েছে। প্রতাপবাবুর নিজের প্রায় ১০ বিঘা জমি রয়েছে। ফসল উৎপাদনের জন্য ২০২০ সালে এলাকার ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে দুই লক্ষ টাকা কৃষি লোন নিয়েছিলেন প্রতাপ চন্দ্র ঘোষ । কিন্তু ভালো ফসল উৎপাদন না হওয়ায় সেই লোনের কিস্তির টাকা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে দিতে পারছিলেন না বলে অভিযোগ । এনিয়ে ওই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রতাপবাবুর পরিবারকে নিয়মিত চাপ দিচ্ছিল বলে অভিযোগ।

অসুস্থ কৃষকের স্ত্রী সোনালি ঘোষ জানিয়েছেন, বাড়িতে চিকিৎসার জন্য কিছুদিন আগেই স্বামী প্রতাপ চন্দ্র ঘোষ একটি জমি বিক্রি করে। যার দরুন কয়েক লক্ষ টাকা মিলে। সেই চেক দু’দিন আগেই এলাকারই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে জমা দেওয়া হয় । কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ লোনের টাকা শোধ না করতে পারাই সেই চেক আটকে দেয়। আমরা অনেক অনুরোধ জানিয়ে ওই ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে বলি সামান্য কিছু টাকা দিয়ে আমাদের উদ্ধার করুন । পরে লোনের টাকা শোধ করে দেওয়া হবে। কারণ, বাড়িতে অসুস্থ মানুষ রয়েছে । চিকিৎসা করাতে হবে । কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোনরকম ভাবে আমাদের কথায় গুরুত্ব দিতে চাই নি। অবশেষে হতাশ হয়েই আমার স্বামী সকলের সামনেই ব্যাংক ম্যানেজারের উপস্থিতিতেই কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। সংকটজনক অবস্থায় মালদা মেডিকেল কলেজে ও হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তার।
এদিকে এই ঘটনায় রীতিমতো অসন্তোষ ছড়িয়েছে আলমপুর এলাকায় গ্রামবাসীদের মধ্যে।