সুইগী ডেলিভারী বয়ের সাহায্যে ছেলের খোঁজ পেলেন এক দম্পতি

15
সুইগী ডেলিভারী বয়ের সাহায্যে ছেলের খোঁজ পেলেন এক দম্পতি

আজকাল যেসব মানুষ বিদেশ বিভূয়ে থাকেন পরিবার ছেড়ে তাঁদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম বলতে শুধুই ফোন। কিন্তু কোনো কারণে ফোনে যদি না পাওয়া যায় তাহলে? কি ভীষন চিন্তা হয় বাবা মার বা পরিবারের। সম্প্রতি ঠিক তেমনি একটি ঘটনা ঘটে চেন্নাইয়ের এক দম্পতির সাথে। আর সবচেয়ে আশ্চর্যের যে তাঁরা শেষ অবধি তাঁদের ছেলের খোঁজ পায় সুইগী ডেলিভারী বয়ের সাহায্যে। আর এই গল্পটি তাদের এক আত্মীয়ের ছেলে পোস্ট করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর সেটা খুবই ভাইরাল হয়েছে বলে জানা যায়।

ঠিক কি হয়েছিল তাহলে আসুন জেনে নেওয়া যাক।
তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ের এক দম্পতিদের ছেলে একলা থাকে তেলেঙ্গানার সেকেন্দ্রবাদে। ফোনের মাধ্যমেই তারা যোগাযোগ রাখে ছেলের সাথে। কিন্তু বেশ কয়েকদিন তাদের ছেলের সাথে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। ক্রমেই চিন্তা বাড়ছিল তাঁদের
শেষ অবধি তাঁদের বেঙ্গালুরুর এক আত্মীয়কে ফোন করেন। তাদের ছেলের খবর জানতে চেষ্টা করার জন্য। সেই আত্মীয় ওখানকার সুইগি বয়কে দিয়ে শেষ অবধি ওই ছেলের খবর জানতে সফল হন। ওই আত্মীয়র ছেলে সোমবার সাইকিরণ কান্নান পুরো বিষয়টি টুইট করে লেখেন।

তিনি জানান, রবিবার রাতে এক তাঁর মায়ের দূরসম্পর্কের আত্মীয় ফোন করে তাদের ছেলের কথা বলেন। তারা জানান তাদের ছেলের সাথে তারা যোগাযোগ করতে পারছেন না। তাদের ছেলে তেলাঙ্গানার সেকেন্দ্রাবাদে একা থাকেন। তাঁর ফোন বেজে যাচ্ছে। তারপর তাঁর মাকে ওদের ছেলের বাড়ির ঠিকানা দেন ওই বৃদ্ধ দম্পতি। আর তারপরেই ওই ছেলের খবর জানতে সাইকিরণের মা ওই যুবকের বাড়ির ঠিকানায় সুইগি ইনস্টামার্ট থেকে বিস্কুট এবং জুসের অর্ডার দেন। সঠিকভাবে ডেলিভারি হলেই বোঝা যাবে যে ওই যুবক সুরক্ষিত আছে এরকমই ছিল প্লান টা। আর সেই মতোই রবিবার রাত ৯ টা ১৫ মিনিট ওই যুবকের বাড়ির কাছে যান সুইগির ডেলিভারি বয় শ্রীনাথ শ্রীকান্ত। কিন্তু ঠিকানাটা এমন ছিল যে ওই যুবকের বাড়ি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

শেষে নিরুপায় হয়ে সৌকিরণের মা বলে ওই ডেলিভারী বয় ওইসব খাবার যেনো নিজেই নিয়ে নেন। তারপর ফের দম্পতির সঙ্গে কথা বলেন। ওই যুবকের কয়েকজন বন্ধুর নম্বর যদি পাওয়া যায় সেই উদ্দেশে। আর তারপর কয়েকটা বন্ধুর থেকে খবর জোগাড় করে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে ওই যুবকের বাড়ির সঠিক ঠিকানার বের করে ফেলেন। তবে ততক্ষণে অনেক সময় পেরিয়ে গিয়েছে তখন ঘড়িতে রাত ৯ টা ৪৫। সুইগির ডেলিভারি বয়কে ফোন করেন। সেইসময় যে ডেলিভারি দিচ্ছিলেন, তা শেষ করে তিনি ওই যুবকের নতুন ঠিকানায় যেতে রাজি হন।

শেষ অবধি ওই যুবকের ফ্ল্যাটের বাইরে যান শ্রীকান্ত। যুবককে নিজের ফোন দেন। জানা যায়, দিনকয়েক আগে দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিলেন ওই যুবক। সেই কারণেই কড়া ডোজের ওষুধ খাচ্ছে সে।। মা-বাবা যাতে চিন্তা না করে হক ফোন ধরেনি। সাইকিরণ আরো বলেন, ‘সুইগির ডেলিভারি বয় ওই যুবককে বিস্কুট এবং জুস তাঁর মা নিয়ে নিতে বলার পরেও সে সেটা নেন নি উল্টে এতটা চেষ্টা করেছেন যাতে ওই যুবকের খবর পাওয়া যায়। তখন সাড়ে ১০ টা বাজে। তাঁর সমস্ত কাজ মিটিয়ে তবেই ফিরেছেন । তাই মানবতা সত্যিই আমাদের সমাজে এখনও আছে।’ এই কথাই সাইকিরণ টুইটারের মাধ্যমে জানান। যা পড়ে নেটিজেনরা মুগ্ধ হয়েছে।