সংরক্ষণ প্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বাটি হাতে রাস্তায় এক কলেজ ছাত্র

5
সংরক্ষণ প্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বাটি হাতে রাস্তায় এক কলেজ ছাত্র

বিগত প্রায় ৭০ বছর ধরেই সংরক্ষণ নিয়ে বাক-বিতন্ডা, তর্ক-বিতর্ক, পক্ষে-বিপক্ষে মতামত সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। এসসি, এসটি, ওবিসি সম্প্রদায়ভুক্ত পিছিয়ে পড়া জনজাতিকে সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যেই প্রায় ৭০ বছর আগে সংরক্ষণ পদ্ধতির উদ্ভাবন করেন ভারতীয় সংবিধানের জনক ডঃ বি আর আম্বেদকর। শিক্ষাক্ষেত্রে, চাকুরী ক্ষেত্রে যাতে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষেরা এগিয়ে আসতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে চালু হওয়া এই সংরক্ষণ প্রথা আজও সমাজে থেকে গিয়েছে।

তথাকথিত “সাধারণ” তথা “জেনারেল ক্যাটাগরি”র পড়ুয়া অথবা চাকরিপ্রার্থীদের অর্থনৈতিক অবস্থা যে সমাজে পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক অবস্থার থেকে বেশ উন্নত, এমনটা ভাবার কিন্তু কোনো কারণ নেই। যেকোনো চাকরির পরীক্ষার ক্ষেত্রে যেমন নির্দিষ্ট আসন সংখ্যা সংরক্ষণের আওতাভুক্ত হয়ে থাকে, তেমনি পরীক্ষায় বসার আগের আবেদন পদ্ধতিতেও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরীক্ষার ফি দিতে হয় না।

অপরপক্ষে তথাকথিত “জেনারেল ক্যাটাগরি”র পরীক্ষার্থীরা যারা মেধাবী অথচ গরিব, তারা টাকার অভাবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরীক্ষায় বসতেই পারেন না। এই বিভাজন সমাজে বহুদিন ধরেই চলে আসছে। এমন পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এক অভিনব উপায় অবলম্বন করলেন কলকাতার আশুতোষ কলেজের ভূগোলের কৃতি ছাত্র শোভন মুখার্জি।

শোভন মুখার্জি, ইনি কলকাতার প্যাডম্যান হিসেবে পরিচিত। শহরের প্রতিটি মহিলা পাবলিক টয়লেটে স্যানিটারি প্যাডের ভেন্ডিং মেশিন বসিয়েছেন তিনি। তার উদ্যোগেই বেসরকারি বাসে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের বসার আসন নিশ্চিত করার জন্য “ত্রিধারা” প্রকল্প চালু হয়েছে। এহেন যুবক আজ কলকাতার রাস্তায় বাটি হাতে ভিক্ষা করতে বসেছেন। ভিক্ষা করে তিনি যা উপার্জন করবেন, সেই টাকা দিয়ে যাতে কোনো গরিব মেধাবী জেনারেল ক্যাটাগরি ভুক্ত পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসতে পারেন! তার এমন উদ্যোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে।