একই পরিবারের ১৪০ জন ডাক্তার, সকলেই করছেন মানুষের সেবা, পাঁচ প্রজন্ম ধরে একই পেশা

123
একই পরিবারের ১৪০ জন ডাক্তার, সকলেই করছেন মানুষের সেবা, পাঁচ প্রজন্ম ধরে একই পেশা

কথাতেই আছে, ডাক্তারের ছেলে ডাক্তার হবে, উকিলের ছেলে উকিল।কিন্তু বর্তমান যুগে পিতা-মাতারা তাদের সন্তানদের নিজের ইচ্ছেমতো জীবিকা বেছে নেবার সুযোগ করে দেন। আবার অনেক সময় দেখা গেছে, দিনমজুরের ছেলেও ডাক্তার হচ্ছেন, কোন চুড়ি বিক্রি করা মায়ের সন্তান আইপিএস অফিসার হচ্ছেন।কিন্তু এমনই একটি পরিবার আছে যেখানে প্রত্যেক ব্যক্তির ডাক্তার হওয়া বাধ্যতামূলক। অবাক হলেও, একথা সত্যি। এমন একটি পরিবার রয়েছে দিল্লি র সভারওয়াল পরিবার।দেশভাগের সময় থেকে তারা তাদের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য বহন করে আসছে, ফলস্বরূপ তাদের একই পরিবারের ডাক্তারের সংখ্যা মোট ১৪০ জন।

তাদের পরিবারের প্রত্যেকে এই পেশাকে বেছে নিয়েছেন নিজের ইচ্ছেতে।একই পরিবারের সকলে ডাক্তার হবার পেছনে একটি ইতিহাস আছে। লালা জীবনমল সভারওয়াল থেকে এই যাত্রা শুরু হয়েছিল। তিনি পেশায় প্রথমে শিক্ষক ছিলেন। একদিন হঠাৎ গান্ধীজীর ভাষণ শুনে তিনি উদ্বুদ্ধ হন, তার মাথায় হাসপাতাল খোলার জেদ চেপে যায়। কিন্তু নিজের ৪ ছেলেকে ডাক্তারি লাইনে পড়াশোনা করান। সালটা ছিল ১৯১৯ সাল।সভারওয়াল পরিবারের প্রথম ডাক্তারি পাশ করেন বোধরাজ সভারওয়াল। সেই থেকে শুরু তাদের ডাক্তার হবার যাত্রা।

বাবার মতাদর্শ অনুযায়ী, পরিবারের সকলকে ডাক্তার হতে হবে, এমনটাই নিয়ম বেঁধে দিয়েছিলেন তিনি। এমনকি তাদের বাড়ির প্রত্যেক ছেলে এবং মেয়ে যাদের সাথে বিয়ে করেছেন তারা সকলে ডাক্তার। দেশভাগের পর লাহোর থেকে দিল্লি চলে আসেন। দিল্লিতে এসে তারা পাঁচটি হাসপাতাল বানান।লালা জীবনমল সভারওয়াল এর নামে তৈরি হয়েছিল প্রথম হাসপাতালটি। এই পরিবারের অন্যতম সদস্য সার্জেন রবিনদর ও তার স্ত্রী সুদর্শনা জানান, “এই রীতি নিয়ে বহুবার আমাদের পরিবারে বহু সমস্যা দেখা দিয়েছে। নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা অনেক সময় ডাক্তারি নিয়ে পড়াশোনা করতে চায়নি, বা কোন ডাক্তার ছেলে বা মেয়েকে বিয়ে করতে চায়নি।

এই সংকটের মুখে বললে আমরা সকলে মিলে আলোচনায় বসি,যারা সেই সময় আসতে পারেন না তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হয়, শেষমেষ আলোচনার মাধ্যমে আমরা সেই সমস্যার একটি সমাধান করে ফেলি”।এই পরিবারের চতুর্থ প্রজন্মের একটি ছেলে বায়োকেমিস্ট্রি পড়া একটি মেয়েকে বিয়ে করেছিল।সেই বৌমা আজ গাইনোকোলজিস্ট ডাক্তার শীতল।কিভাবে তিনি হঠাৎ ডাক্তার হলেন এই প্রশ্নে মজা করে তিনি বলেন,”প্রথমে এবাড়িতে বিয়ে হয়ে আসার পর নানা লোকের নানা প্রশ্নের মুখে আমাকে পড়তে হয়। আমি কেন ডাক্তার নই এই বিষয়ে কৌতুহল প্রকাশ করেন অনেকে। শেষমেষ আমি বিরক্ত হয়ে ডাক্তারি পড়াশোনা করতে শুরু করি।

বোধরাজ বেঁচে থাকাকালীন একটি রীতি প্রচলন করেছিলেন, তার পরিবারের কোনো সদস্য ডাক্তারি পাশ করলে তাকে স্টেথোস্কোপ দিয়ে আশীর্বাদ করা হতো।এই পরিবারের খবরটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০০৯ সালে। ১০ বছর কেটে গেল আজও এই পরিবারের ডাক্তার হবার প্রথা অব্যাহত।