চৈতন্য দেবের হাত ধরেই নাকি এসেছিল মালদার বিখ্যাত মিষ্টি রসকদ্মব

4
চৈতন্য দেবের হাত ধরেই নাকি এসেছিল মালদার বিখ্যাত মিষ্টি রসকদ্মব

একথা হয়তো অনেকেরই কাছে অজানা মালদার বিখ্যাত মিষ্টি রসকদ্মব এসেছিল চৈতন্য দেবের হাত ধরে। ইতিহাস অনুযায়ী ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে এই রসকদ্মব মিষ্টিটি তৈরি হয়েছিল মালদায়। তখন ছিল সুলতান শাহের আমল। এই আমলেই মালদায় শ্রীচৈতন্যদেব এসেছিলেন। কথিত আছে তিনি কদম গাছের তলায় ধ্যান করছিল এবং সেখান থেকেই উৎপত্তি হয় রসকদ্মব মিষ্টি।

এছাড়াও সেই আমলে আরো দুটো মিষ্টি খুবই বিখ্যাত ছিল হালুয়া পট্টি ও টাড়ার খাজা। এখন এই দুইটি মিষ্টি বিলুপ্ত হয়ে গেছে সুলতানি আমলের সাথেই। রসকদ্মব মিষ্টি তৈরি হয় ক্ষীর, ছোট রসগোল্লা এবং পোস্ত দিয়ে। অর্থাৎ ছোট রসগোল্লার ওপরে ক্ষীরের একটি পোলাপ থাকে এবং ক্ষীরে্র ওপরে থাকে পোস্তদানা। অথাৎকলমের ফুলের ন্যায় এই মিষ্টি তৈরি করা হয় এবং নাম রাখা হয় রসকদ্মব। পোস্ত চাষ প্রচুর পরিমাণে হয় মালদায়। তাই এই মিষ্টিও খুব বেশি পাওয়া যায় মালদায়। মিষ্টির নাম রসকদ্মব হওয়ার কারণ হল শ্রীচৈতন্যদেব কদম গাছের তলায় ধ্যান করছিলেন। তারপরেই ঠিক করা হয় কদম ফুলের মতোই দেখতে হবে এই মিষ্টি।

মালদার যেকোনো অনুষ্ঠানে এই মিষ্টির আভিজাত্য অপরিসীম। জন্মদিন হোক বা বিয়ে বাড়ি বা অন্নপ্রাশন যে কোন অনুষ্ঠানে রসকদম চাই মালদা বাসীদের। বর্তমানে পোস্তের দাম খুবই বেশি তার সত্বেও রসকদম্বের চাহিদা কোন পরিমাণে কমেনি। মালদাতে অনেক মিষ্টি দোকানের মালিকরা পোস্তের বদলে চিনি ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু যারা পুরনো বংশপরম্পরায় যারা রসকদম্ব তৈরি করে আসছেন তারা পোস্ত ব্যবহার করে থাকেন।

মালদায় পোস্তের চাহিদা বেশি থাকায় মিষ্টির দাম সেখানে খুব একটা বেশি নয়, রসকদ্মবের দাম ছয় থেকে দশ টাকা প্রতি পিস। তবে মিষ্টির দোকানের মালিদের ধারণা, যদি রসকদ্মবের দাম বেড়ে যায়। তাহলেও মালদাবাসী এই মিষ্টি কিনবেন কারণ অনেকের মতে এই মিষ্টি হলো তাদের বংশের কৌলিন্যের প্রতীক। যেকোনো শুভ অনুষ্ঠানই রসকদ্মব ছাড়া অসম্পূর্ণ।